agamir somoy
উপকূলে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে বাঁচবে ৩৬০ বিলিয়ন: এডিবি

উপকূলীয় অঞ্চলগুলো এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির উপেক্ষিত চালিকাশক্তি। প্রতীকী ছবি

বিজ্ঞাপন

উপকূলীয় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বছরে ৯ থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হলে প্রতিবছর ১৭৮ থেকে ৩৬০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। অন্যথায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই অর্থনৈতিক ক্ষতি ২০৫০ সালের মধ্যে বেড়ে ১৯৯ বিলিয়ন এবং ২১০০ সালের মধ্যে ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬: কোস্টাল রিস্কস অন দ্য রাইজ—অ্যাকশনস ফর আ রেজিলিয়েন্ট ফিউচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে এ অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যায় বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বছরে ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র উপকূলীয় এলাকাগুলো এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এডিবির তথ্যমতে, উপকূলীয় সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ২০১৫ সালের প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে গড়ে ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থায়ন বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে এডিবির উপকূলবর্তী উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোতে ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ সমুদ্র থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করায় তাদের জীবন-জীবিকা সরাসরি হুমকির মুখে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

উচ্চ নিঃসরণ পরিস্থিতিতে ২১০০ সাল নাগাদ ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর বার্ষিক বন্যাজনিত ক্ষতি জিডিপির ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া শতাব্দীর শেষ নাগাদ ব্যাংকক, জাকার্তা, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে শত বছরে একবার হওয়া বন্যা প্রতিবছরই আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করেছে এডিবি। এতে বন্দরগুলো বিঘ্নিত হয়ে বছরে ৪০ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঝুঁকিতে পড়বে।

এডিবির জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিচালক ইয়েভজেনি ঝুকভ জানান, উপকূলীয় অঞ্চলগুলো প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হলেও প্রাকৃতিক বিপদের মুখে পিছিয়ে পড়ছে। মানুষকে নিরাপদ রাখতে ও অর্থনীতি সচল রাখতে এখনই ঝুঁকি-সচেতন দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রতিবেদনে উপকূল সুরক্ষায় জলবায়ু অভিযোজনকে মূলধারায় যুক্ত করা, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করাসহ চারটি সুপারিশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন:
বিজ্ঞাপন