ফায়দাবাদে আ.লীগ নেত্রী শামিমা আক্তার ডালিয়া, বাবু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে জমি দখল, ভুয়া মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে রাজনীতির সাথে জড়িত এক প্রবীণ নেতার বৈধ জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেত্রী শামিমা আক্তার ডালিয়া, সাইফুল ইসলাম বাবু এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মোখলেছুর রহমান আজ ২১শে অক্টোবর দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। এছাড়া, সম্প্রতি জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তিনি দক্ষিণখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. মোখলেছুর রহমান (৫৬) জানান, তিনি ফায়দাবাদ মধ্যপাড়া (হোল্ডিং নং- ২২২) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। স্থানীয় উত্তরখান ও দক্ষিণখান মৌজায় অবস্থিত একটি জমিতে তিনি দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে পানি ও গ্যাসের লাইন নিজ নামে নামিয়ে ভোগদখল ও মাছ চাষ করে আসছেন। জমিটি তিনি মূল মালিক গজেন্দ্র কুমার সেনের (যিনি ১৯৭৫ সালে মারা যান) চার ছেলের কাছ থেকে কিনেছিলেন। একসময় জমিটি ভুলবশত খাস জমি হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও, আইনি লড়াই শেষে তিনি আদালতের রায় পক্ষে পান এবং বর্তমানে সব বৈধ কাগজপত্র তার নামেই রয়েছে।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনের তথ্যমতে, আওয়ামী লীগ নেত্রী শামিমা আক্তার ডালিয়া ও তার ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলাম বাবু দীর্ঘদিন ধরে এই জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ই অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দুপুর ১২টার দিকে মো. মজিবুর রহমান (৭০) এবং এ এস এম সামছুদ্দিন মজুমদার (৪২) সহ আরও কয়েকজন ওই বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে উপস্থিত হয়ে জোরপূর্বক বেদখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাধা দিলে তারা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখী আচরণ করে, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে ওই জমিতে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী আরও জানান, এই বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি নিয়ে ৬ষ্ঠ যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঢাকায় একটি দেওয়ানি মামলা (মোকদ্দমা নং-২৯৪/২০২৪) চলমান রয়েছে। তা সত্ত্বেও চক্রটি তাকে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৪ কোটি টাকার প্রস্তাব দেয়। অনৈতিক এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় উল্টো শামিমা আক্তার ডালিয়া মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এছাড়াও, অভিযুক্তরা জাল দলিলের মাধ্যমে ওই জমিসহ মোট ১০টি জমির ভুয়া কাগজ ব্যাংকে দেখিয়ে ১৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছে, যার বিরুদ্ধেও বর্তমানে মামলা চলছে।
আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রবীণ এই নেতা বলেন, "আমি ৪০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, আমি চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসী নই। দলের জন্য বাবার জমি বিক্রি করেছি। কিন্তু আজ আওয়ামী লীগের ওই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা টাকার বিনিময়ে স্থানীয় কিছু বিএনপি কর্মীকে হাত করে আমার জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।"
নিজ দলের কর্মীদের একাংশের এমন আচরণে অস্তিত্ব সংকটে ভোগা মোখলেছুর রহমান অবিলম্বে এই ভূমিদস্যুদের হাত থেকে নিজের সম্পত্তি ও পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে প্রয়োজনে যেকোনো উচ্চ পর্যায়ের দ্বারস্থ হবেন বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।