ফিলিপাইনের জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা জিক্যাশের মূল প্রতিষ্ঠান মাইন্ট মঙ্গলবার ম্যানিলার পুঁজিবাজারে যাত্রা শুরু করেছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড গড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাইন্টের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি ফিলিপাইনের আর্থিক প্রযুক্তি (ফিনটেক) খাতের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বাড়াবে।
জিক্যাশ ব্যবহারকারীরা প্রতিষ্ঠানটির মোবাইল ওয়ালেট প্ল্যাটফর্মে এবি ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের পরিচালিত জি-স্টকস পিএইচ সেবার মাধ্যমে শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগ করতে পারেন। ফিলিপাইন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট রামন মনজন জানান, জিক্যাশের প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৫ জন গ্রাহক মাইন্টের আইপিওতে বিনিয়োগ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন এবং সব মিলিয়ে তারা এ আইপিওতে প্রায় ১১০ কোটি পেসো বিনিয়োগ করেন।
মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাকে দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কোস বলেন, এই তালিকাভুক্তির সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আমাদের পুঁজিবাজারে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও আরও ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্লোব টেলিকম, আয়ালা গ্রুপ ও চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবার সহযোগী অ্যান্ট গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ মাইন্ট। দেশটির ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষের এখনো প্রচলিত ব্যাংক হিসাব নেই এবং জিক্যাশের বর্তমানে ফিলিপাইনে মাসে ৪ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছেন। মোবাইল ফোনের বহুল ব্যবহৃত এই অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ, ঋণ গ্রহণ, সঞ্চয় ও বিভিন্ন বিল পরিশোধসহ নানা আর্থিক সেবা পাওয়া যায়।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রথম দিন মাইন্টের শেয়ারের দাম ৬ দশমিক ৬০ পেসোর প্রাথমিক মূল্য থেকে ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৬৪ পেসোতে দাঁড়ায়, যা প্রতি শেয়ারের প্রায় ১১ মার্কিন সেন্টের সমান। ফার্স্ট মেট্রো ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস্টিনা উলাং বলেন, মাইন্টের তালিকাভুক্তি ফিলিপাইনের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে এবং এটি একটি বড় আইপিও।
তিনি আরও বলেন, আসিয়ানে কিংবা এশিয়ার সামগ্রিক আর্থিক প্রযুক্তি খাতে আমাদের অবস্থানের দিক থেকে এখন আমরা বিশ্বমানচিত্রে জায়গা করে নিতে যাচ্ছি এবং আগে আমরা যেন অদৃশ্যই ছিলাম। জিক্যাশ ও মাইন্ট ফিলিপাইনের ডিজিটাল অর্থনীতির অগ্রগতির মাপকাঠি হয়ে উঠবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মাধ্যমে বোঝা যাবে আমরা কতটা এগোচ্ছি, কতটা উন্নতি করছি ও আসিয়ানের অন্য দেশগুলোর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারছি কি না।