বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংগৃহীত
অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোকে নতুন কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ। গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করেছে, যা দেশের সব বিমা প্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে পরিপালন করতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বিদ্যমান আইন এবং বিএফআইইউর নির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি বীমা কোম্পানিকে নিজস্ব নীতিমালা করতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা বা সিএএমএলসিও। প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার আকার ও গ্রাহক সংখ্যা বিবেচনা করে এই ইউনিটে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাহীর পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাসহ প্রতিবেদনটি পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে এবং প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএফআইইউর কাছে পাঠাতে হবে। কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই সম্পূর্ণ ও সঠিকভাবে গ্রাহকদের পরিচয় নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং বিএফআইইউর আধুনিক ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। বেনামি বা ছদ্মনামের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করতে হবে এবং সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবা চ্যানেল ছাড়া একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানিগুলোকে পরের মাসের প্রথম সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। কোনো পলিসি বন্ধ বা দাবি নিষ্পত্তির পর সব কেওয়াইসি নথি, লেনদেনের রেকর্ড, অডিট রিপোর্ট এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নথি ন্যূনতম পাঁচ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।