বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রি করে ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের ব্যর্থ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি মোট ৪২টি প্রশ্নের লিখিত উত্তর আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফা শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত। এছাড়া ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্প ও ফিফার পরিচালনা প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে পাঠানো চিঠিতে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চান উয়েফার মহাসচিব থিওডোর থিওডোরিডিস। সেখানে জানতে চাওয়া হয়, ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশ কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটালকে এককভাবে বিনিয়োগের সুযোগ কে দিয়েছিল এবং লাল কার্ড বিষয়ে ট্রাম্প ইনফান্তিনোকে কী বলেছিলেন।
এর আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনার প্রতিবাদে ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিয়েছিল উয়েফা। পরবর্তীতে এমন উদ্যোগ আর নেওয়া হবে না বলে ফিফা আশ্বস্ত করলে হুমকি প্রত্যাহার করা হয়। তবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এবং ২০২৭ সালের নির্বাচনে পুনরায় সভাপতি হওয়ার চেষ্টার বিরোধিতা এখনো অব্যাহত রেখেছে ইউরোপীয় সংস্থাটি।
উয়েফা মহাসচিব চিঠিতে উল্লেখ করেন, আগের ব্যাখ্যাগুলো কাউন্সিলের মৌলিক প্রশ্নের সন্তোষজনক সমাধান দিতে পারেনি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রও দেওয়া হয়নি। তিনি স্পষ্ট জানান, এফএফই প্রকল্প বাতিল ও প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত সব বিষয়ের বিস্তারিত লিখিত উত্তর এবং সহায়ক কাগজপত্র আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে পাঠাতে হবে।
এদিকে ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে ফিফা কংগ্রেসের পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ নভেম্বর নির্ধারিত হলেও সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিপক্ষে এখনো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়নি।