জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাবেক এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে ২৫৫ ইউরো জরিমানাও করা হয়েছে। সোমবার এক ঘোষণায় এই শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেডারেশন।
ফেডারেশনের আচরণবিধি অনুযায়ী এ ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গে এক থেকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার বিধান থাকলেও রোনালদোকে সর্বনিম্ন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশন্স লিগ চলাকালে আকস্মিকভাবে দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ওয়ার্ম-আপ করিয়েও তাঁকে মাঠে নামাননি কোচ জর্জ জেসুস। পরে ১ অক্টোবর ডেনমার্কের বিপক্ষে একাদশে না থাকার কথা জানতে পেরে তিনি ক্যাম্প ছাড়েন।
ডেনমার্ক ম্যাচের দিন থেকেই রোনালদোর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে শাস্তির ১৯ দিন পার হওয়ায় চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ তাঁর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে। ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি জানিয়েছে, গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে রোনালদোর ভুল স্বীকার ও অনুশোচনা প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই শাস্তির মাত্রা কমানো হয়েছে।
ক্যাম্প ত্যাগের পর কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন রোনালদো। তবে অবসরের গুঞ্জন উড়িয়ে তিনি লিখেছিলেন, “আজ পর্যন্ত যেমন ছিলাম, ভবিষ্যতেও তেমনই আমাদের জাতীয় দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে এবং জিততে আমি প্রস্তুত থাকব।” পরবর্তীতে কোচ জেসুসও জানান, রোনালদো তাঁর ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেললে এবং আগ্রহ দেখালে তাঁকে দলে বিবেচনা করা হবে।
শাস্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে আল নাসরের অনুশীলনের প্রস্তুতিমূলক ছবি পোস্ট করেছেন রোনালদো, যার ক্যাপশনে লেখেন, “কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।” এদিকে তাঁর অনুপস্থিতিতেও নেশন্স লিগের চার ম্যাচের সবকটিতে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। আগামী ১৪ নভেম্বর ডেনমার্ক ও ১৭ নভেম্বর ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই রোনালদোর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে।