এলিট পর্যায়ের ক্রিকেটারদের প্রয়োজন মেটাতে ধাপে ধাপে কোচিং কাঠামো আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। এ জন্য বিশেষজ্ঞ কোচ ও প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে ইতোমধ্যে এইচপি দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র এইচপির কোচের দায়িত্ব পালন করছেন সোহেল ইসলাম এবং বাংলাদেশের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক কোচিং স্টাফে যোগ দিয়েছেন। পেস বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কোরি কলিমোর।
২০০৪ সালে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির অধীনে এইচপি প্রোগ্রাম চালু করা হয়। তখন কমিটির প্রধান ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো এবং রিচার্ড ম্যাকিনেসকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই ক্রিকেটাররা প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবদান রেখেছেন।
নতুন কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের আরেকটি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা হলো বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে জাতীয় দলের পর্যায়ে ক্রিকেটারদের সফলভাবে নিয়ে আসা। রবীদ জানান, নতুন এইচপি প্রোগ্রামে এসব সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, এইচপি প্রোগ্রামে খেলোয়াড়দের সঠিক পথে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তাদের কাছে কঠিন মনে না হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করার লক্ষ্যে হাই পারফরম্যান্স প্রোগ্রাম নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবি নারী ক্রিকেটারদের জন্যও একটি পৃথক এইচপি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এইচপি দলের ক্রিকেটারদের জন্য আরও বেশি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের সুযোগও খতিয়ে দেখছে বিসিবি। রবীদ বলেন, এই মুহূর্তে এইচপি দলের জন্য দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন করতে আমরা কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছি।
বর্তমান কাঠামোর বাইরে ধীরে ধীরে এই কর্মসূচিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট একাডেমিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কাঠামোয় চোট ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। রবীদ বলেন, পুনর্বাসন কাঠামো আরও শক্তিশালী করা গেলে এসব বাধা কমানো সম্ভব। এর আওতায় চিকিৎসা সংক্রান্ত মূল্যায়ন, ফিজিওথেরাপি, শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অনুশীলন এবং কাজের চাপ পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করা যেতে পারে।
বিসিবির সহকারী মহাব্যবস্থাপক রবীদ ইমাম বাসসকে বলেন, মূল লক্ষ্য হলো, ক্রিকেটারদের সারা বছর ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত রাখা, যাতে তারা সব সময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত থাকেন। তিনি আরও বলেন, একটি সিরিজ খেলার পর বিশ্লেষক, কোচ ও অন্য কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করেন। তারা কী ভালো করেছেন এবং কোথায় ভুল করেছেন, তা চিহ্নিত করা হয় এবং নির্দিষ্ট একটি সিরিজের পর এইচপি প্রোগ্রাম তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ দেবে। ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস)।