agamir somoy
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বাংলাদেশ
বিজ্ঞাপন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর দলের সামনে এখন টিকে থাকার বাঁচা-মরার লড়াই। আগামীকাল বুধবার আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে জয় পেলে ফাইনালে ওঠার আশা টিকে থাকবে।

জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। নেট রান রেটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের কাছে হারলেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে তাদের। অন্যদিকে, আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারলে নেট রান রেটে জিম্বাবুয়েকে টপকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এক ম্যাচে জয় পেয়ে বর্তমানে প্লাস ৩.১৬০ নেট রান রেট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তান। এক জয় ও এক হারে মাইনাস ০.৫৯০ নেট রান রেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে জিম্বাবুয়ে এবং প্রথম ম্যাচে হারের পর মাইনাস ১.৯৮০ নেট রান রেট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান বলছে, আফগানিস্তানকে হারানো বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে না। ওয়ানডেতে দুই দল এখন পর্যন্ত ২২ বার মুখোমুখি হয়েছে যেখানে উভয় দলই জিতেছে ১১টি করে ম্যাচ। তবে সর্বশেষ ছয় লড়াইয়ের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে আফগানিস্তান এবং এই পাঁচটি জয়ই এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ও আবুধাবিতে। ২০২৪ সালে শারজাহতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান ৯ উইকেটে ২৯৩ রান সংগ্রহের পর জবাবে মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই হারের এক বছর ছয় দিন পর আবারও ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ এবং এবার আগের ফল পাল্টে দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দুই দল একটি টেস্ট ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল যেখানে কঠিন অবস্থায় পড়েও ম্যাচটি ড্র করে আফগানিস্তান। ওয়ানডে লড়াইয়ের আগে এই ফল তাদের বাড়তি মানসিক সুবিধা দিতে পারে।

টস জেতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে কারণ আবুধাবির উইকেট সাধারণত ম্যাচ যত এগোয়, তত ধীর হয়ে আসে। ফলে ফ্লাডলাইটের আলোয় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ে এবং টুর্নামেন্টের সর্বশেষ দুটি ম্যাচেও রাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করার চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ম্যাচের পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফল ভিন্ন হতে পারত।

কোমরের চোটে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় ইতোমধ্যে ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। তবে জ্বরের কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারা অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ এই ম্যাচে দলে ফিরতে পারেন। বাংলাদেশ দলে রয়েছেন তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, আলিস আল ইসলাম ও পারভেজ হোসেন ইমন।

আফগানিস্তান দলে রয়েছেন রহমত শাহ (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (সহ-অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), ইকরাম আলিখিল (উইকেটরক্ষক), সেদিকুল্লাহ আতাল, ইব্রাহিম জাদরান, হাশমতউল্লাহ শহিদি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, নাঙ্গিয়ালাই খান, এএম গজনফর, বিলাল সামি, জিয়া উর রহমান শরিফি, ফজল হক ফারুকি ও ইয়ামিন আহমদজাই। ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখের বাসস পরিবেশনায় এই তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন:
বিজ্ঞাপন